Thursday, April 3, 2025

শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ কী তাহলে গরু চিকিৎসার বিশেষ ওষুধ?

- Advertisement -

কোনও একটি প্রাণীর সংখ্যা যদি তার মোট সংখ্যার ৯০ শতাংশ কমে যায় তবে সেই প্রাণীটিকে লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানে শকুন -কেও লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ বাংলার আকাশ থেকে অতি দ্রুতগতিতে হারিয়ে যাচ্ছে এই পাখিটি। লক্ষ্য করা হয়েছে ১৯৭০ সাল নাগাদ শুধুমাত্র বাংলাদেশে শকুন -এর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার।

শকুন
Image by Jevgeni Fil from Pixabay

এই বিশ্বে প্রায় ৬০ লক্ষ বছর ধরে শকুন -এর বসবাস চললেও, অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এই কদাকার পাখিটি। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে অতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে শুরু করেছে এই পাখিটির সংখ্যা। এক সময় বঙ্গদেশের গ্রামগুলিতে শকুন-এর যাতায়াত ছিল যথেষ্ট পরিমাণে। এদেরকে নিয়ে নানান অশুভ কাহিনিও রচিত হয়েছে সেসময়। কিন্তু আশ্চর্যরকমভাবে এরা হারিয়ে যেতে শুরু করেছে বঙ্গদেশের বুক থেকে।

‘ঝাড়ুদার পাখি’-দের মধ্যে অন্যতম ছিল এই শকুন। সেসময় গ্রাম বা শহরগুলির প্রান্তদেশে থাকত ‘পশুভাগাড়’। মৃত পশুদের দেহাবশেষ সেখানে ফেলে দেওয়া হত। দুর্গন্ধ ছড়াত সমগ্র অঞ্চল জুড়ে। আশ্চর্যরকমভাবে এগুলিই ছিল শকুন -এর খাবার। মুহূর্তের মধ্যে সাবাড় করে ফেলত মৃত পশুগুলিকে। দুর্গন্ধ ছড়ানো ও রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বেঁচে যেত পরিবেশ। যদিও সেসব এখন অতীত। কাক ছাড়া ‘ঝাড়ুদার পাখি’-দের কাউকেই আর বিশেষ দেখতে পাওয়া যায় না বঙ্গদেশের অঞ্চলগুলিতে।

আন্তর্জাতিক শর্ত অনুযায়ী, কোনও একটি প্রাণীর সংখ্যা যদি তার মোট সংখ্যার ৯০ শতাংশ কমে যায় তবে সেই প্রাণীটিকে লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানে শকুন -কেও লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ বাংলার আকাশ থেকে অতি দ্রুতগতিতে হারিয়ে যাচ্ছে এই পাখিটি। লক্ষ্য করা হয়েছে ১৯৭০ সাল নাগাদ শুধুমাত্র বাংলাদেশে শকুনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। পরে দেশ জুড়ে শুমারি চলাকালিন দেখা গিয়েছে ২০০৮-০৯ সালে ১৯৭২টি, ২০১১-১২ সালে ৮১৬টি ও ২০১৪ সালে মাত্র ২৬০টি শকুন অবশিষ্ট রয়েছে। এই ২৬০টির সবগুলিই বাংলা শকুন। বাংলাদেশের সিলেট ও সুন্দরবনের কয়েকটি অঞ্চলে এখন কোনও রকমে টিকে রয়েছে এই শকুন-গুলি।

বিশ্বে ১৮ প্রজাতির শকুন থাকলেও বাংলায় রয়েছে মাত্র ৬ প্রজাতি। তার মধ্যে বাংলা শকুন, রাজ শকুন, গ্রিফন শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরুঠোঁট শকুন অন্যতম। এখন শুধুই বাংলা শকুন অবশিষ্ট রয়েছে বঙ্গদেশ জুড়ে। রাজ শকুন বহু বছর ধরেই অজ্ঞাত এখানে। তবে হিমালয়ী শকুন ও গ্রিফন শকুন মাঝে মধ্যে এসে হাজির হয় পরিযায়ী বেশে। অবশ্য কোনও কোনও বছর তাদেরও আর দেখতে পাওয়া যায় না।

- Advertisement -

শকুন বিলুপ্তির এই কারণ কী? সাম্প্রতিককালের একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গরু চিকিৎসায় এক সময় ব্যবহার করা হত ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রফেন ওষুধগুলি। এই ওষুধগুলিই নাকি শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিকিৎসায় যে সমস্ত গরুকে এই ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার মাংস খেয়ে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে শকুন -এর।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর