প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত একের পর এক ঘটেছে বিভিন্ন আবিস্কার। আর ততই পরিবর্তন ঘটেছে পৃথিবীর পরিবেশ। মানুষের জীবনকে করেছে আরও উন্নত, আরও সহজ। তবে সবচেয়ে বড় যে সব আবিস্কার মানুষের জীবনকে করেছে সবচেয়ে বেশি গতিশীল, তারই কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হল।

মানুষের আবির্ভাবের সময়কালে মানুষই ছিল অন্য প্রাণীদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দুর্বল। তার পায়ে ছিল না ঘোড়া বা চিতার মতো গতি। পারত না পাখির মতো উড়তে বা মাছের মতো সাঁতার কাটতে। আবার তার শরীরে ছিল না হাতির মতো ক্ষমতা বা বাঘ-সিংহের মতো হিংস্রতা।
তবে মানুষের যা ছিল তা অন্য কারওরই প্রায় ছিল না বললেই চলে, আর তা হল মস্তিস্ক। প্রথম অবস্থায় এই মস্তিস্কও ছিল অতি সাধারণ অন্য প্রাণীদের মতো। পরে ধাপে ধাপে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার তাগিদে এই মস্তিস্কে ঘটেছে পরিবর্তন। মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে কিনা নিজের ও তার সভ্যতার জন্য চিন্তা বা ভাবনা শুরু করতে পেরেছে। আর তার পর থেকেই একটার পর একটা আবিস্কার ঘটে চলেছে তার মস্তিস্ক থেকে। যা মানুষকে বানিয়েছে এই পৃথিবীর অধিপতি। নিজের ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে অন্য সমস্ত বন্য প্রাণীকে।
প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত একের পর এক ঘটেছে বিভিন্ন আবিস্কার। আর ততই পরিবর্তন ঘটেছে পৃথিবীর পরিবেশ। মানুষের জীবনকে করেছে আরও উন্নত, আরও সহজ। তবে সবচেয়ে বড় যে সব আবিস্কার মানুষের জীবনকে করেছে সবচেয়ে বেশি গতিশীল, তারই কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হল।
১. আগুন
নিঃসন্দেহে আগুন মানুষের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিস্কার। যেখানে অন্যসব বন্য পশু আগুনকে রীতিমতো ভয় পায়, মানুষ অবলীলায় সেই আগুনকেই তার ব্যবহারে কাজে লাগাতে শিখেছে। কি করে আগুন জ্বালাতে হয়, ব্যবহার করতে হয় বা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় সুপ্রাচীনকালেই মানুষ তা আবিস্কার করতে পেরেছিল। আর তাই তার সভ্যতার গতিকে নিমেষেই কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল অন্যদের তুলনায়।
২. পোশাক
পোশাক একদিকে যেমন লজ্জা নিবারণ করে, অন্যদিকে তেমন শীত, গ্রীষ্মের মতো প্রাকৃতিক শক্তিগুলির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে। আগুনের মতো সুপ্রাচীনকালেই পোশাক আবিস্কার করতে পেরেছিল মানুষ। আর তার পরই অন্য বন্য পশুদের থেকে নিজেকে অনেক বেশি দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছিল। হতে পেরেছিল অনেক বেশি আধুনিক।
৩. অস্ত্র
সুপ্রাচীনকালে মানুষই ছিল একমাত্র প্রাণী, যে নিজের শিকার ধরার জন্য অস্ত্রের ব্যবহার শিখেছিল। একটি প্রাণীকে কীভাবে অস্ত্র দ্বারা ঘায়েল করা সম্ভব, সেটিই ছিল সেই সময়ের অনেক বড় একটি আবিস্কার। আর সেই আবিস্কার এর দৌলতে আজ মানুষ পাথর ছুঁড়ে শত্রু নিধন থেকে পরমাণু অস্ত্র ছোড়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।
৪. চাকা
নিঃসন্দেহে চাকাও মানুষের অনেক বড় একটি আবিস্কার। ‘গাছের গুঁড়ি গড়িয়ে চলে’, মূলত এই ভাবনা থেকেই সে এক সময় আবিস্কার করেছিল চাকা। তারপর সভ্যতার উন্নতি পর্বে ধাপে ধাপে চাকাতেও ঘটেছে বিভিন্ন পরিবর্তন। এখন তো এই চাকার উপরই জেগে রয়েছে মানব সভ্যতার গতি। তার পায়ে ঘোড়া বা চিতার মতো গতি না থাকলেও এই চাকার ভরসাতেই নিজেকে বানিয়েছে শব্দের চেয়েও অনেক বেশি গতিশীল।
৫. ভাষা
এই বিশ্বে মানুষই একমাত্র প্রাণী, যার নিজস্ব কোনও ভাষা রয়েছে। মনের ভাব একে অপরকে বোঝাবার জন্য সুপ্রাচীনকালেই এই ভাষা আবিস্কার করেছিল মানুষ। যা তাকে দিয়েছে অনেক বেশি গতি।
৬. লিপি
ভাষার মতো লিপিও ছিল অনেক বড় একটি আবিস্কার। সুপ্রাচীনকালে এই আবিস্কার সম্ভব হলেও কোথায় প্রথম এই লিপির ব্যবহার শুরু হয়, তা অবশ্য নির্দিষ্ট নয়। তবে মনের ভাব লিখিত আকারে প্রকাশের অনেক বড় একটি মাধ্যম এটি।
৭. ছাপাখানা
এক সময়ে মানুষ কাঠের ফলক বা পাথরের গায়ে লিখে নিজের ভাব ও অস্তিত্ব প্রকাশ করত। তারপর এল কাগজ। এই কাগজেও পাতার পর পাতা হাতে লিখে প্রকাশ করাতে হত। কিন্তু মধ্যযুগে পৌঁছে মানুষ আবিস্কার করে ফেলল ছাপাখানা। সভ্যতার গতিতেও এল বদল। এই ছাপাখানার ক্রম উন্নতিতে বর্তমানে মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য লেখা প্রকাশ হতে শুরু করল।
৮. কম্পিউটার
আধুনিক সভ্যতার গতিকে অনেক বেশি গতিশীল করে দিয়েছে কম্পিউটার আবিস্কার। এক সময় মানুষের এই অস্ত্র শুধুমাত্র গণনার কাজেই ব্যবহার করা হত। কিন্তু বর্তমানে যে কোনও কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখন অপরিহার্য। যে কাজ করতে একাধিক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে ফেলে। সেই একই কাজ একটি কম্পিউটারে একজন মানুষ মুহূর্তের মধ্যে করে ফেলতে পারে। তবে বর্তমানে মানুষ স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারও আবিস্কার করে ফেলেছে। যাকে চালনা করতে মানুষের প্রয়োজনই পড়ে না।
৯. বেতার তরঙ্গ
দূরকে সবচেয়ে বেশি নিকট করেছে বেতার তরঙ্গ। চাকা যেমন মানব সভ্যতার পায়ের গতিকে করেছে দ্রুততর। বেতার তরঙ্গ তেমনই মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সবচেয়ে বেশি গতিশীল। এরই মাধ্যমে মানুষ এখন শুধু পৃথিবীর এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তের তথ্য আদান-প্রদান নয়, বহিঃবিশ্বের সঙ্গেও তথ্য বিনিময়ের চেষ্টা শুরু করেছে।
১০. ইন্টারনেট
যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এখন ইন্টারনেট পরিষেবা। এই পরিষেবা ব্যবহার করে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের মানুষ এখন মুহূর্তের মধ্যে অন্য প্রান্তের মানুষের তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। আদান-প্রদান করতে পারছে নিজের পছন্দ মতো অডিও, ভিডিও বা ইমেজ। ঘরে বসেই নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছে সহজ-সরলভাবে।