গত ১৬ মার্চ বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের প্রাচীন সভাগৃহে বাংলা তথা ভারতবর্ষের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সুবিখ্যাত মনীষীদের মধ্যে স্থান করে নিলেন অধ্যাপক প্রণব মুখোপাধ্যায়। বীরভূমের ভূমিপুত্র তথা বীরভূমের গৌরব শ্রী মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য অবদানের কথা এদিন বিভিন্ন বক্তার স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে।

শতাব্দী প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যমন্ডিত বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ঐতিহাসিক পাঠকক্ষে (টাউন হল) ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতির আবরণ উন্মোচিত হল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বীরভূম জেলার সিউড়ি শহরের এই গ্রন্থাগারটি সম্প্রতি ১২৫ বর্ষ পূর্ণ করেছে এবছরেই। গ্রন্থাগারটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র প্রাচীনতম বেসরকারি গ্রন্থাগার, যা সরকারের কোনও নিয়মিত অর্থানুকূল্য ছাড়াই শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।
গত ১৬ মার্চ বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের প্রাচীন সভাগৃহে বাংলা তথা ভারতবর্ষের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সুবিখ্যাত মনীষীদের মধ্যে স্থান করে নিলেন অধ্যাপক প্রণব মুখোপাধ্যায়। বীরভূমের ভূমিপুত্র তথা বীরভূমের গৌরব শ্রী মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য অবদানের কথা এদিন বিভিন্ন বক্তার স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে। প্রতিকৃতির আবরণ উন্মোচন করেন আইআইটি-র প্রাক্তন ডিরেক্টর তথা Indian Institute of Engineering Science and Technology, Shibpur (IIEST) এর নবরূপকার এবং প্রথম উপাচার্য বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ পদ্মশ্রী অধ্যাপক ড. অজয় কুমার রায়। প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন শ্রী রায়ের অত্যন্ত গুণমুগ্ধ। বিভিন্ন সময় অধ্যাপক রায় ‘নবভারত’ নির্মাণে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। অবসর নেওয়ার পরেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, প্রকল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
অধ্যাপক অজয় কুমার রায়ের বক্তব্যে উঠে আসে প্রণববাবুর জীবনের নানা অজানা ও অনালোচিত কাহিনি। শ্রী রায় এদিন শোনালেন কত কষ্ট করে প্রণববাবু শিবপুরের বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ভারতবর্ষের প্রথম IIEST-তে রূপান্তরিত করেন ২০১০ সালে। এবং প্রণববাবুর প্রচেষ্টায় IIEST-র নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকার ৫৯২,২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। শিক্ষাবিদ, ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী ও সর্বোপরি ভারতের মহামহীম রাষ্ট্রপতি রূপে তাঁর অসামান্য কর্মকান্ড, যার অনেকটাই অজানা ছিল সাধারণ মানুষের কাছে। এদিন অধ্যাপক রায় তার বক্তব্যে সেই ঘটনাগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন। প্রণববাবুর জীবনের বিভিন্ন দিক বিশেষ করে তাঁর পাণ্ডিত্য এবং ভারতবর্ষের শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের বিষয়গুলি অত্যন্ত সুচারুরূপে তুলে ধরেন অধ্যাপক রায়। শ্রী রায়ের দীর্ঘ বক্তব্যে শ্রোতারা সমৃদ্ধ হন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা ছিলেন প্রণববাবুর সুপুত্র প্রাক্তন সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, বীরভূমের জেলাশাসক শ্রী বিধান রায় ও বীরভূম মহাবিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যক্ষ ও প্রণববাবুর স্নেহধন্য ড. পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। গ্রন্থাগারের পরিচালন সমিতির উদ্যোগে প্রণববাবুর প্রতিকৃতি বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ঐতিহাসিক সভাকক্ষে স্থান পাওয়ায় বীরভূমবাসী অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এদিন সিউড়ির বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী রতন কাহার সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু বিশিষ্ট গুনীজন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সুধীবৃন্দের সমাগমে হল ছিল পরিপূর্ণ।