Thursday, April 3, 2025

বিষয় বাংলাদেশ : পাহারা দিয়ে দুর্গা পুজো কেন?

- Advertisement -

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য আতঙ্ক দমনে শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে বরাবর। এবছর সরকারি হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশ -এ দুর্গা পুজো উদযাপিত হচ্ছে ৩২,৬৬৬টি মন্দিরে। সরকারের প্রতিনিধি দল প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করে পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে পৌঁছেও গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বাংলাদেশ
Photo by Debendra Das from Pexels

মহালয়া পেরিয়ে গিয়েছে ৫ দিন আগেই। সূচনা ঘটেছে দেবীপক্ষের। মর্ত্যে আগমন ঘটেছে মা দুর্গার। মা এবার এসেছেন দোলায় চেপে। যাবেন ঘোড়ায় চড়ে। আজ মায়ের বোধন। আগামীকাল মহাষষ্ঠী। অর্থাৎ আগামীকাল থেকে পরবর্তী ৫ দিন ধরে চলবে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব, দুর্গোৎসব। যদিও এবছর মহাঅষ্টমী ও মহানবমী তিথি অনুযায়ী একই দিনে পড়েছে। তাই এবছর দুর্গোৎসব মূলত চলবে ৪ দিন ধরে। উৎসবে সামিল হবে সমগ্র বাঙালি।

বাদ যাবে না বাংলাদেশ –ও। অন্যদের মতো এদেশের সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এ এক আবেগের উৎসব। সারা বছর প্রতীক্ষার পর আসে এই উৎসবের দিন। রঙিন পোশাক পরিধানে পরিচিত মানুষের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে ঘুরে বেড়াবে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে। হাসি, গল্প আর নাচ-গানের আনন্দে কাটিয়ে দিতে চায়বে উৎসবের দিনগুলি।

তবে তাদের এই উৎসব পালনে কতটা থাকবে নিরাপত্তা? আদৌ কি নির্বিঘ্নে কাটবে এই দিনগুলি? প্রশ্ন থেকে যায় প্রতি বছরই। অন্তত ৪৭-এ দেশ ভাগের সময় থেকেই। প্রতি বছরই দুর্গোৎসবের আগেই বাংলাদেশ –এর এক শ্রেণীর মানুষ মেতে ওঠে ভাঙচুর আর আতঙ্ক তৈরির উৎসবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই সময় ভেসে আসে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। মাকে যেন বিজয়ার আগেই বিদায় জানাতে হয় এখানে। প্রতিমার অভাবে অনেকে আবার পরম্পরা ধরে রাখতে বাধ্য হন ‘ঘটপুজো’-য় দুর্গা পুজো সারতে।

এই বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিভিন্ন প্রান্তে হয়েছে প্রতিমা ভাঙচুর। এমনকি খুলনা জেলায় দুর্গা পুজো না করার জন্য একাধিক পুজো কমিটির হাতে পৌঁছে গিয়েছে ‘উড়ো চিঠি’। আতঙ্কে ওই জেলার অনেকেই দুর্গোৎসব না করার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন।

- Advertisement -

এমনিতেই ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ -এ মাথা তুলতে শুরু করেছে একাধিক উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি। দিনটিকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে তারা। ‘স্বাধীনতা’-র আনন্দে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘উৎসব’ পালন করেছে ভাঙচুর, গণহত্যা আর লুটপাটের মধ্য দিয়ে। সেদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালানো হয়েছে ৫৯টি জেলায়। মাত্র ৫ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যেই সারা দেশে ভাঙা হয়েছে ১,৪৯৪টি ভাস্কর্য-ম্যুরাল। সেই সঙ্গে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে আঘাত আসবে না, এটা ভাবা অস্বাভাবিক। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ১,০৬৮টি বসত বাড়ি ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ২২টি উপাসনালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি। তাই উৎসবের দিনগুলিতে ‘কী হয়, কী হয়’ আতঙ্ক এখনও বর্তমান।

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য আতঙ্ক দমনে শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে বরাবর। এবছর সরকারি হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশ -এ দুর্গা পুজো উদযাপিত হচ্ছে ৩২,৬৬৬টি মন্দিরে। সরকারের প্রতিনিধি দল প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করে পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে পৌঁছেও গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

কিন্তু একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বক্ষণের পাহারায় কেন সেদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব পালন করতে হবে? কেন তারা স্বাধীনভাবে তাদের উৎসব-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবে না? স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও কেন তাদেরকে এতখানি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে?

যদিও দুর্গোৎসবের আগে বাংলাদেশ –এর একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামিল হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের কাছেও তাদের দাবি পেশ করেছে। কিন্তু সেই আহ্বান বা দাবি আদৌ কী পূরণ হবে কোনও কালে? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর