প্রকৃত অর্থে কাগজের মুদ্রা প্রথম প্রচলন হয় আরও পরে। এবং সেটিও এই চিন দেশেই। একাধিক তথ্য ঘেঁটে ঐতিহাসিকেরা জানতে পারেন, চিনের সং সাম্রাজ্যের সময়ে সম্রাট ঝেনজংয়ের সময়ে (৯৯৭ – ১০২২ খ্রিস্টাব্দ) বাণিজ্য বাজারে সরাসরি লেনদেনের জন্য প্রথম চালু হয় কাগজের মুদ্রা।

অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্য বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে যে মুদ্রা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দুই ভাগে বিভক্ত – ধাতুর মুদ্রা ও কাগজের মুদ্রা। ধাতুর মুদ্রাগুলির বেশির ভাগই ছোট ছোট গোলাকার চাকতির মতো। দেশ ভেদে যার ওপরের দুই পিঠে মুদ্রার মূল্য ও সেই দেশের নিজস্ব চিহ্ন অঙ্কিত থাকে। কাগজের মুদ্রা –র ক্ষেত্রেও প্রায় একই নিয়ম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি দেশের একটি নির্দিষ্ট সরকারি ব্যাঙ্ক পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণেও সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে অনেক কিছুরই।
কিন্তু ধাতুর মুদ্রা বহু প্রাচীন হলেও কাগজের মুদ্রা খুব বেশি পুরনো নয়। ইতিহাসবিদদের একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে চিনা মুদ্রার কথা। এই দেশেই নাকি ধাতুর মুদ্রার পাশাপাশি কাগজের মুদ্রা –র প্রথম প্রচলন ঘটেছিল। আর তার আকার ছিল অনেকটা বর্তমান সময়ের A-4 সাইজের পেপারের মতো। তবে প্রথম দিকে এই মুদ্রা ছিল দেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের একেবারে বাইরে। শুধুমাত্র ব্যবহার করত দেশের বড় বড় বণিক ও সরকারি কর্মকর্তারা।
আসলে ঐতিহাসিকেরা এই ধরণের মুদ্রাকে ‘ফ্লাইং মানি’ বলে উল্লেখ করেছেন। আনুমানিক ৬১৮ – ৯০৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাং সাম্রাজ্যের সময়ে চিনে এই ধরণের মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। ধারণা করা হয়, দূরবর্তী স্থানে অতি সহজে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের সুবিধার্থেই এই ব্যবস্থা চালু ছিল। এটি অনেকটা বর্তমান সময়ের ‘ব্যাঙ্ক ড্রাফট’-র মতো। এই ব্যবস্থায় সে সময়ের বণিক বা সরকারি কর্মকর্তারা কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কাগজের ওপর পরিমাণ মতো অর্থমূল্য ও তার বিবরণ লিখে নিত। পরে অন্য কোনও নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সেই মূল্য প্রচলিত মুদ্রায় ভাঙিয়ে নিতে পারত।
তবে প্রকৃত অর্থে কাগজের মুদ্রা প্রথম প্রচলন হয় আরও পরে। এবং সেটিও এই চিন দেশেই। একাধিক তথ্য ঘেঁটে ঐতিহাসিকেরা জানতে পারেন, চিনের সং সাম্রাজ্যের সময়ে সম্রাট ঝেনজংয়ের সময়ে (৯৯৭ – ১০২২ খ্রিস্টাব্দ) বাণিজ্য বাজারে সরাসরি লেনদেনের জন্য প্রথম চালু হয় কাগজের মুদ্রা। এই মুদ্রাগুলি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ছাপাতে শুরু করেছিল চিনেরই একদল বণিক। তারা এগুলিকে বলত ‘জিয়াওজি’।
কিন্তু সরকার লেনদেনের সুবিধার্থে নিজস্ব উদ্যোগে যখনই ‘হুইজি’ নামে আর এক ধরণের কাগজের মুদ্রা নিজস্ব ছাপাখানায় ছাপাতে শুরু করে, তখনই জিয়াওজির অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যায়। বাজারে ছড়িয়ে পরে হুইজি।
এই কাগজের মুদ্রা –গুলির এক একটির আকার ছিল এখনকার A-4 সাইজের কাগজের মতো। প্রথম দিকে মুদ্রাগুলির মূল্য ও পরিমাণ নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির হাতে লেখার উপর নির্ভরশীল ছিল। সেই সঙ্গে ছিল লাল রঙের একটি সরকারি সিলমোহর। পরে নির্দিষ্ট একটি ছাঁচে ছাপানোর ব্যবস্থা শুরু হয় এই ধরণের মুদ্রাগুলিকে। তবে চিনের এই সব কাগজের মুদ্রা –র কোনও অস্তিত্ব এখন আর নেই। ঐতিহাসিকেরা অবশ্য সেই সময়ের কাগজের মুদ্রা ছাপানোর একটি ছাঁচ আবিস্কার করেছেন।