ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে, এর নাম রাখা হবে ‘দানা’। নামটি কাতার রেখেছে। আরবি ভাষায় দানা শব্দটির অর্থ ‘মূল্যবান মুক্তো’ বা ‘উদারতা’। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি নির্মিত হয় তার নামের তালিকা তৈরি করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া দফতর বা ওয়ার্ল্ড মেটিয়োরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। এই তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দেশগুলি।

আশঙ্কা ছিলই। এবার সেই আশঙ্কাকে আরও মজবুত করে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। বর্তমানে এর অবস্থান দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে। যদিও এটি এখনও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়নি। নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে মাত্র। তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই লঘু নিম্নচাপ প্রথমে শক্তিশালী নিম্নচাপ ও পরে ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।
এমনিতেই বাংলায় শীত ঢোকার পূর্বে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা থাকে প্রবল। সাগর থাকে উত্তাল। সমুদ্রের জলের উপরি অংশ অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এটি কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই এই সময়টাতে উপকূলবর্তী মানুষদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
প্রায় দিন দশেক আগে থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়াতে আবহাওয়াবিদরা ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথা প্রচার করে আসছিলেন। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও উত্তর আন্দামান সাগর সন্নিকটে কয়েকদিন ধরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছিল, যেটি সম্প্রতি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটিই আরও শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।
এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে, এর নাম রাখা হবে ‘দানা’। নামটি কাতার রেখেছে। আরবি ভাষায় দানা শব্দটির অর্থ ‘মূল্যবান মুক্তো’ বা ‘উদারতা’। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি নির্মিত হয় তার নামের তালিকা তৈরি করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া দফতর বা ওয়ার্ল্ড মেটিয়োরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। এই তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দেশগুলি।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড় দানা –য় পরিণত হলে এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছে পুরী ও সাগরদ্বীপের মাঝে কোনও একটি স্থান দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় বাতাসের সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ১০০-১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল অঞ্চলগুলিতে। পর্যটকদের স্থান খালি করতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলভাগে ২৩ অক্টোবর থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ও ২৫ অক্টোবর সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টি চলবে। তার মধ্যে দুই উত্তর ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলী, কলকাতায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।