বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জাপান এর নতুন প্রজন্ম ক্রমশই শহরমুখী হয়ে উঠছে। তাই গ্রামীণ অঞ্চলগুলির জনসাধারণ কমছে। বাড়ছে শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা। তাই পরিত্যক্ত হচ্ছে গ্রামীণ অঞ্চলের বাড়িগুলি। সিএনএন এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই জাপান এ পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলের।

উদীয়মান সূর্যের দেশ অর্থাৎ জাপান এখন ক্রমশই পরিত্যক্ত বাড়ি বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে এই দেশে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ৯০ লাখ অতিক্রম করে গিয়েছে। এই সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে জাপান প্রশাসন। কিন্তু কেন?
সর্ব পূর্বের দ্বীপরাষ্ট্র এই জাপান। ধরে নেওয়া হয় সর্বপ্রথম এই দেশেই সূর্যের উদয় ঘটে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রাত্যহিক দিনের সূচনা ঘটে এখানে। তাই জাপান কে ‘সূর্য উৎস’ বা ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ বলা হয়ে থাকে। কয়েকটি বড় বড় ও অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে জাপান গঠিত হয়েছে। এই দেশের ইতিহাসও বেশ পুরনো। সামরিক দিক দিয়ে জাপান যে কতটা শক্তিশালী ছিল, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সহজেই অনুমান করা যায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও ব্রিটিশ সেনার সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামার আগে জাপান এর সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। এক সময় প্রায় সমগ্র চিন দেশটিকেই নিজেদের শাসনাধীনে আনতে সক্ষম হয়েছিল এই জাপান।
এখন এই দেশেই বেশি বয়সীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে ক্রমশ। সেই তুলনায় কম বয়সীদের সংখ্যা অনেকটাই কম। অনুমান করা হচ্ছে ২০২৫ সাল নাগাদ ৬৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৬ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এদেশে জন্মহারও ক্রমশ নিম্নমুখী। তাই ক্রমশই কমছে জনসাধারণের সংখ্যা। ২০১০ সালের হিসাবে যেখানে জাপান এর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি ৮০ লক্ষ, ২০১৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৯ লক্ষে। এই জন্মহার কমার মূল কারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশীদের সচরাচর নাগরিকত্ব না দেওয়া।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জাপান এর নতুন প্রজন্ম ক্রমশই শহরমুখী হয়ে উঠছে। তাই গ্রামীণ অঞ্চলগুলির জনসাধারণ কমছে। বাড়ছে শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা। তাই পরিত্যক্ত হচ্ছে গ্রামীণ অঞ্চলের বাড়িগুলি। সিএনএন এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই জাপান এ পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলের।
জাপান এর নিজস্ব ভাষায় এই পরিত্যক্ত বাড়িগুলিকে বলা হয় আকিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান এর জনসংখ্যা হ্রাসের কারণেই বাড়ছে এই আকিয়ার সংখ্যা। জন্মহার কমে যাওয়ায় অনেক সময় উত্তরাধিকারী থাকছে না অথবা নতুন প্রজন্ম কর্মসূত্রে স্থান পরিবর্তন করছে। এছাড়াও এখানে বহু পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে, যেগুলি আইনি জটিলতার কারণে খালি পড়ে রয়েছে। বর্তমানে জাপান এর মোট আবাসিক সম্পত্তির প্রায় ১৪ শতাংশই হল এই আকিয়া।