ভারতেই এই নিরামিষ ভোজী মানুষের জন্ম হয়েছিল এক সময়। ভারতের ব্রাহ্মণ সমাজ ও জৈন সমাজে সে সময় থেকেই নিরামিষ ভোজনের চর্চা শুরু হয়েছিল। সাধারণত পশুদের প্রতি মমত্ব ও সংবেদনশীলতার জন্যই শুরু করা হয়েছিল এই চর্চা। যদিও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নের কারণও। ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও নিরামিষ খাদ্যদ্রব্যের উপকারিতার বিশদ বিবরণ দেওয়া রয়েছে।

একথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই, যে এই পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র উত্তম সর্বভুক প্রাণী। মজার ছলে বললে ব্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হয়, মানুষ খায় না বা খেতে বোঝে না এমন কোনও খাবার বোধহয় এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই মানুষেরই একাংশ একদিন হঠাৎ করেই নিরামিষ ভোজী হয়ে গেল।
ইতিহাস ঘাঁটলে যে তথ্য হাতে আসে, ভারতেই এই নিরামিষ ভোজী মানুষের জন্ম হয়েছিল এক সময়। ভারতের ব্রাহ্মণ সমাজ ও জৈন সমাজে সে সময় থেকেই নিরামিষ ভোজনের চর্চা শুরু হয়েছিল। সাধারণত পশুদের প্রতি মমত্ব ও সংবেদনশীলতার জন্যই শুরু করা হয়েছিল এই চর্চা। যদিও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নের কারণও। ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও নিরামিষ খাদ্যদ্রব্যের উপকারিতার বিশদ বিবরণ দেওয়া রয়েছে।
তবে ভারতের পাশাপাশি চিন, মিশর, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রাচীনকালে নিরামিষ ভোজী মানুষের উপস্থিতি ছিল। এমনকি এক শ্রেণীর মানুষ ছিল সম্পূর্ণ ভেগান। অর্থাৎ তারা উদ্ভিজ্জ অংশ ছাড়া প্রাণী অংশের কোনও কিছুই খাদ্যতালিকায় রাখতেন না। বিখ্যাত অঙ্কবিদ পিথাগোরাস নিজেই ছিলেন একজন ভেগান।
তবে বর্তমান সভ্যতায় ভারতের মতো সেই বিশাল নিরামিষ ভোজী দেশের এক বিশাল অঙ্কের মানুষ এখন আমিষের ভক্ত হয়ে উঠেছে। শুধু ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বের পরিস্থিতিই এখন এমনটাই। তাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যতালিকায় আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, পৃথিবী জুড়ে এই সময়ে নিরামিষ ভোজী র সংখ্যা আবারও বাড়ছে ক্রমশ। কমছে আমিষ ভোজীদের সংখ্যা। অন্তত বিবিসি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
ওই রিপোর্ট অনুযায়ী একটি সমীক্ষা করা হয়েছে সম্প্রতি। তা থেকে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে নিরামিষ ভোজী দের সংখ্যা। গত ৩ বছরে যুক্তরাজ্যে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০০ গুন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে প্রায় ৬০০ গুন। ভেগান সোসাইটির করা ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে যেখানে নিরামিষ ভোজী দের সংখ্যা ছিল মাত্র দেড় লক্ষ, সেখানে ২০১৮ সালে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ। ওই সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, এই শ্রেণীর মানুষেরা কোনওরকম মাছ-মাংস বা ডিমজাতীয় খাবারও খান না। তবে এ শুধু যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা নয়। সমগ্র পৃথিবীতেই এমনটি ঘটছে।
কিন্তু কী কারণে আমিষভোজীরা হঠাৎ নিরামিষ ভোজী হয়ে উঠছেন? সমীক্ষায় তার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, বিভিন্ন গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে মাংস জাতীয় খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। তাছাড়া নিরামিষ খাদ্যে কিছু শারীরিক উপকারিতাও মেলে। দু’রকম খাবারের এই গুনাগুন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে ব্যাপকভাবে প্রচার হতে শুরু হয়েছে। ফলে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যতালিকায় আমিষের বদলে নিরামিষকেই বেশি করে গুরুত্ব দিচ্ছে।