Friday, April 4, 2025

আনা ফ্রাঙ্ক : এই বিশ্বাসঘাতকই ধরিয়ে দিয়েছিলেন গোটা পরিবারকে

- Advertisement -

১৯৪৫ সালের মার্চ অথবা ফেব্রুয়ারিতে নাৎসি বন্দি শিবিরে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারা যান আনা ফ্রাঙ্ক। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৭৭ বছর পরেও তাঁকে নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। গবেষণা তাঁর জীবনের একাধিক বিষয় নিয়ে। ইহুদি হওয়ার কারণে জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিদ্বেষের শিকার হয় তাঁর পরিবার। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর নাৎসি বাহিনীর বিষ নজর থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। অবশেষে ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা জার্মান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান।


আনা ফ্রাঙ্ক
Image by ChangJoo Park from Pixabay

গত শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিদের একজন অবশ্যই ‘আনা ফ্রাঙ্ক’। মাত্র ১৫ বছরের স্বল্প জীবনে তিনি বিখ্যাত হয়ে রয়েছেন তাঁর ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল’ বইটির জন্য। মূলত এটি একটি দিনলিপি। আনা ফ্রাঙ্ক একটি লাল-সাদা ডোরাকাটা ডায়েরিতে ১২ জুন ১৯৪২ থেকে ১ আগস্ট ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সংকটময় পরিবেশ ও তাঁর নিজের কথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ডায়েরিটি ওলন্দাজ ভাষায় প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৪৭ সালে। পরে ১৯৫২ সালে এটি প্রথম ইংরেজি ভাষায় ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল’ নামে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের সময়কাল থেকে এখনও পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক পঠিত বই। পরে এই বইকে অনুসরণ করে কয়েকটি সিনেমাও তৈরি হয়েছে।

১৯৪৫ সালের মার্চ অথবা ফেব্রুয়ারিতে নাৎসি বন্দি শিবিরে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারা যান আনা ফ্রাঙ্ক। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৭৭ বছর পরেও তাঁকে নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। গবেষণা তাঁর জীবনের একাধিক বিষয় নিয়ে। ইহুদি হওয়ার কারণে জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিদ্বেষের শিকার হয় তাঁর পরিবার। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর নাৎসি বাহিনীর বিষ নজর থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। অবশেষে ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা জার্মান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। তবে এখনও পর্যন্ত অজ্ঞাত-ই ছিল ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয়। কে ছিল ওই অজ্ঞাত বিশ্বাসঘাতক, যে আনা ফ্রাঙ্ক-এর পরিবারের লুকনো বাসগৃহের সন্ধান দিয়েছিল জার্মান নিরাপত্তা বাহিনীকে?

দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্নের জবাব পাচ্ছিলেন না গবেষকেরা। এবার সামনে এসেছে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয়। এ-নিয়ে প্রায় ৬ বছর ধরে চলেছে তদন্ত। তদন্ত চালিয়েছেন একাধিক ইতিহাসবিদ, বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর কর্মকর্তা। তদন্তে ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক প্রকৌশল। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই অজ্ঞাত বিশ্বাসঘাতকের নাম ছিল ভ্যান ডেন বার্গ। সিবিএস নামের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে একথা জানিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর একজন সাবেক কর্মকর্তা ভিন্স প্যানকোকে আরনল্ড।

আরনল্ড জানিয়েছেন, ভ্যান ডেন বার্গ নিজেই ছিলেন একজন ইহুদি এবং তিনি ছিলেন আমস্টারডাম-এর ইহুদি কাউন্সিলের সদস্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, নাৎসি বাহিনী যখন সমস্ত ইহুদিদের বন্দি শিবিরে পাঠাচ্ছে, তখন ভ্যান ডেন বার্গ ইহুদি হওয়া সত্ত্বেও ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি আমস্টারডাম-এই থেকে গিয়েছিলেন।

- Advertisement -

কেন তিনি আনা ফ্রাঙ্ক-এর পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন? এব্যাপারে তদন্তে জানা গিয়েছে, হয়তো ভ্যান ডেন বার্গ নিজের ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষার আশ্বাস পেয়েই বিশ্বাসঘাতকতা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তদন্তে এও জানা যায়, আনা ফ্রাঙ্ক-এর বাবা ওটো ফ্রাঙ্ক-ও সম্ভবত জানতেন বিষয়টি। তাঁর হাতে ওই সময় একটি চিরকুট এসে পৌঁছায়। সেখানে কে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, নাম লেখা ছিল। কিন্তু ওটো ফ্রাঙ্ক বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন।

১২ জুন ১৯২৯ সালে আনোলিস মারি ফ্রাঙ্ক বা আনা ফ্রাঙ্ক-এর জন্ম হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আরমাইন শহরে। ১৯৩৩ সালে তাঁর পরিবার আমস্টারডাম-এ চলে আসে। ১৯৪০ সালে নাৎসি বাহিনী আমস্টারডাম দখল করে নেয়। বাড়তে থাকে ইহুদি নিধন। ফলে আনা ফ্রাঙ্ক-এর পরিবার ১৯৪২ সাল নাগাদ একটি গোপন কক্ষে লুকোতে বাধ্য হয়। কিন্তু একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সালে তাঁরা নাৎসি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। আনা ফ্রাঙ্ক ও তাঁর দিদি মার্গোট ফ্রাঙ্ক-কে পাঠানো হয় বারগেন-বেলজার কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। এখানেই ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে আনা ফ্রাঙ্ক ও তাঁর দিদি টাইফাস বা টাইফয়েড-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর