অ্যালকোহল পান না করেও আপনি মদ্যপ হতে পারেন। অনন্ত এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খাদ্য পাচনের জন্য মানুষের শরীরে এমনিতেই প্রাকৃতিক উপায়ে সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহল তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু বিরল একটি রোগের কারণে অনেক সময় পাকস্থলী, মুখ বা মূত্রনালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরের শর্করা ভেঙে অধিক মাত্রায় অ্যালকোহল উৎপন্ন করে।

ধরুন আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন। কিছু দূর যাওয়ার পর ধীরে ধীরে আপনার মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করেছে। হাত-পা সহ সমস্ত শরীর নেতিয়ে পড়ছে। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ মদ বা অ্যালকোহল পান করলে যেমনটি হয়, আপনার শরীরে ঠিক সেই রকম লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। ফলে আপনি সাবধানতা অবলম্বন করলেও পথের অন্য কোনও গাড়িকে ধাক্কা লাগিয়ে বসলেন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এল ট্র্যাফিক পুলিশ। পরীক্ষা করল আপনি মদ্যপ কিনা। অবাক হয়ে দেখলেন হ্যাঁ, সত্যিই আপনি অ্যালকোহল পান করেছেন এবং তার মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আপনাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হল পুলিশ লকআপে।
অথচ আপনি নিজেই অবাক হয়ে গেলেন। আপনি কখনও কোনও দিন অ্যালকোহল ছুঁয়েও দেখেননি। তাহলে ব্যাপারটি কি ঘটল? আপনার শরীরে অ্যালকোহল কোথা থেকে এল? শুধু অ্যালকোহল খুঁজে পাওয়া নয়, রীতিমতো মদ্যপ অবস্থা তৈরি হয়েছে আপনার শরীরে।
হ্যাঁ, অ্যালকোহল পান না করেও আপনি মদ্যপ হতে পারেন। অনন্ত এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খাদ্য পাচনের জন্য মানুষের শরীরে এমনিতেই প্রাকৃতিক উপায়ে সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহল তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু বিরল একটি রোগের কারণে অনেক সময় পাকস্থলী, মুখ বা মূত্রনালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরের শর্করা ভেঙে অধিক মাত্রায় অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। বিবিসি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, চিকিৎসা বিজ্ঞান এই প্রক্রিয়াকে বলেছে ‘এন্ডোজেনাস অ্যালকোহল প্রডাকশন’। আর এই রোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অটো ব্রুয়ারি সিনড্রোম’। যা সংক্ষেপে এবিএস নামে পরিচিত।
এবিএস অত্যন্ত বিরল একটি রোগ। খুবই কম মানুষের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। সর্বপ্রথম ১৯৪০ সাল নাগাদ উগান্ডার একটি হাসপাতালে এই রোগ শনাক্ত করা হয়েছিল। একটি ৫ বছর বয়সী বাচ্চার পাকস্থলী চিকিৎসার সময় এই রোগ সামনে আসে। যা সে সময় ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার এবিএস শনাক্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান জানাচ্ছে, অ্যালকোহল পান করুক বা না করুক এবিএস রোগে রোগী মদ্যপ মানুষের মতো ব্যবহার করবে। তার মুখ থেকেও অ্যালকোহল এর গন্ধ পাওয়া যাবে। একমাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।